৩৫+ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি | ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে কবিতা

আপনি কি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে চান? আজকের এই পোস্টে আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা এবং ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে কবিতা শেয়ার করব।

১৭ মার্চ আমাদের জন্য বিশেষ একটি দিন কারণ এই দিনে বাংলাদেশ স্বাধীন করার নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তো তার জন্মদিন উপলক্ষে আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে চাই।

[su_quote]আরোও পড়ুনঃ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস রচনা ১০০০ শব্দ

আরোও পড়ুনঃ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ভাষণ ও বক্তৃতা (PDF সহ)[/su_quote]

তো যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা জানতে চান বা এই ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে কবিতা পাঠ করতে চান তারা আজকের দেখানো কবিতাগুলো অবশ্যই পড়বেন।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

নিচে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা গুলো উল্লেখ করা হলো। এখানে এই কবিতার লেখক কে এবং কবিতাটির নাম সহ আমরা উল্লেখ করেছি । যাতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করার সময় আপনাদের কোন ধরনের সমস্যা না হয়।

[su_quote]আরোও পড়ুনঃ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ব্যানার নিয়ে নিন (ফ্রি তে)

আরোও পড়ুনঃ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ভাষণ PDF

আরোও পড়ুনঃ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছোটদের কবিতা ও ছোট কবিতা দেখে নিন ( PDF)

আরও পড়ুনঃ ৩৫০+ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস ও উক্তি দেখে নিন[/su_quote]

✅ কবিতার নামঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে
লেখকঃ অন্নদাশঙ্কর রায়

নরহত্যা মহাপাপ, তার চেয়ে পাপ আরো বড়ো

করে যদি যারা তাঁর পুত্রসম বিশ্বাসভাজন

জাতির জনক যিনি অতর্কিত তাঁরেই নিধন।

নিধন সবংশে হলে সেই পাপ আরো গুরুতর,
.

সারাদেশ ভাগী হয় পিতৃঘাতী সে ঘোর পাপের

যদি দেয় সাধুবাদ, যদি করে অপরাধ ক্ষমা।

কর্মফল দিনে দিনে বর্ষে বর্ষে হয় এর জমা

একদা বর্ষণ বজ্ররূপে সে অভিশাপের।
.

রক্ত ডেকে আনে রক্ত, হানাহানি হয়ে যায় রীত।

পাশবিক শক্তি দিয়ে রোধ করা মিথ্যা মরীচিকা।

পাপ দিয়ে শুরু যার নিজেই সে নিত্য বিভীষিকা।

ছিন্নমস্তা দেবী যেন পান করে আপন শোণিত।
.

বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! থেকো নাকো নীরব দর্শক ধিক্কারে মুখর হও। হাত ধুয়ে এড়াও নরক।

✅ কবিতার নামঃ জানতে হলে তাকে
লেখকঃ আশরাফুল আলম পিনটু

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

শেখ মুজিবকে জানতে হলে
জানতে হবে দেশকে
জানতে হবে শুরু থেকে শেষকে।ছয় দফাকে জানতে হবে
জানতে হবে হামলাকে
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে।জানতে হবে তার স্বাধিকার
আন্দোলনের মর্মকে
জেল-জুলুমের আগলভাঙা কর্মকে।বঙ্গবন্ধু উপাধী আর
জানতে হবে ভোটকে
সত্তর সালে পাকিয়েছিল ঘোঁট কে।জানতে হবে সাত মার্চের
ঐতিহাসিক ভাষণকে
পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে।
পঁচিশে মার্চ জানতে হবে
স্বাধীনতার লড়াইকে
ভাঙল কারা পাকহানাদার বড়াইকে।জানতে হবে মুক্তিযুদ্ধ
ডিসেম্বরের ষোলকে
এ বিজয়ে স্বজনহারা হলো কে।সেপ্টেম্বর জানতে হবে
আগস্ট কালো রাতকে
জানতে হবে রাজাকারের জাতকে।জানতে হবে সব ইতিহাস
জানতে তোমার নিজকে
বুকে ফোটাও জাতির পিতার বীজকে।

✅ কবিতার নামঃ ধন্য সেই পুরুষ
লেখকঃ শামসুর রাহমান

ধন্য সেই পুরুষ নদীর সাঁতার পানি থেকে যে উঠে আসে

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে;

ধন্য সেই পুরুষ, নীল পাহাড়ের চূড়া থেকে যে নেমে আসে

প্রজাপতিময় সবুজ গালিচার মত উপত্যকায়;

ধন্য সেই পুরুষ হৈমন্তিক বিল থেকে যে উঠে আসে
.

রঙ বেরঙের পাখি ওড়াতে ওড়াতে।

ধন্য সেই পুরুষ কাহাতের পর মই-দেয়া ক্ষেত থেকে যে ছুটে আসে

ফসলের স্বপ্ন দেখতে দেখতে।
.

ধন্য আমরা, দেখতে পাই দূরদিগন্ত থেকে এখনো তুমি আসো,

আর তোমারই প্রতীক্ষায়

ব্যাকুল আমাদের প্রাণ, যেন গ্রীষ্মকাতর হরিণ

জলধারার জন্যে। তোমার বুক ফুঁড়ে অহংকারের মতো

ফুটে আছে রক্তজবা, আর

আমরা সেই পুষ্পের দিকে চেয়ে থাকি, আমাদের

চোখের পলক পড়তে চায় না,

অপরাধে নত হয়ে আসে আমাদের দুঃস্বপ্নময় মাথা।
.

দেখ, একে একে সকলেই যাচ্ছে বিপথে অধঃপাত

মোহিনী নর্তকীর মতো

জুড়ে দিয়েছে বিবেক-ভোলানো নাচ মনীষার মিনারে,

বিশ্বস্ততা চোরা গর্ত খুঁড়ছে সুহৃদের জন্যে

সত্য খান খান হয়ে যাচ্ছে যখন তখন

কুমোরের ভাঙ্গা পাত্রের মতো,

চাটুকারদের ঠোঁটে অষ্টপ্রহর ছোটে কথার তুবড়ি,

দেখ, যে কোন ফসলের গাছ

সময়ে-অসময়ে ভরে উঠেছে শুধু মাকাল ফলে।

ঝলসে-যাওয়া ঘাসের মত শুকিয়ে যাচ্ছে মমতা

দেখ, এখানে আজ

কাক আর কোকিলের মধ্যে কোনো ভেদ নেই।

নানা ছলছুতোয়

ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর রৌদ্র ঝরে চিরকাল,

গান হয়ে

নেমে আসে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা, যাঁর নামের ওপর

কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া,

ধন্য সেই পুরুষ যাঁর নামের উপর পাখা মেলে দেয় জ্যোৎস্নার সারস,

ধন্য সেই পুরুষ যাঁর নামের উপর পতাকার মতো

দুলতে থাকে স্বাধীনতা,

ধন্য সেই পুরুষ যাঁর নামের ওপর ঝরে

মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি।
.

স্বৈরাচারের মাথায় মুকুট পরাচ্ছে ফেরেব্বাজের দল।

দেখ, প্রত্যেকটি মানুষের মাথা

তোমার হাঁটুর চেয়ে এক তিল উঁচুতে উঠতে পারছে না কিছুতেই।

তোমাকে হারিয়ে

আমরা সন্ধ্যায়, হারিয়ে যাওয়া ছায়ারই মতো হয়ে যাচ্ছিলাম,

আমাদের দিনগুলি ঢেকে যাচ্ছিল শোকের পোশাকে,

তোমার বিচ্ছেদের সংকটের দিনে

আমরা নিজেদের ধ্বংসস্তূপে বসে বিলাপে ক্রন্দনে

আকাশকে ব্যথিত করে তুললাম ক্রমাগত; তুমি সেই বিলাপকে

রূপান্তরিত করেছো জীবনের স্তুতিগানে, কেননা জেনেছি –

জীবিতের চেয়েও অধিক জীবিত তুমি।

✅ কবিতার নামঃ তোমার জন্মে ধন্য মাতৃভূমি
লেখকঃ সুমন বনিক

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

তোমার ডাকে অস্ত্র হাতে করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধ
স্বাধীনতার পরশ পেয়ে তাই হলাম পরিশুদ্ধ।
পরাধীনতার শিকল ভেঙে উন্নীত করি বিজয়ের শির
সারাবিশ্ব বিস্ময়ের চোখে দেখে এ জাতি বীর।
তুমি বাঙালির ইতিহাসের পাতায় সেই অমর মহাকাব্য
তুমি নাই তাই আজি মধুমতি হারায় নাব্য।
বীর বাঙালির হৃদয় তুমি রাজনীতির মহাকবি
পতাকার অই লাল সূর্যটায় তুমি আছো উজ্জ্বল ছবি।
মুক্ত আকাশ সূর্যের মতো দীপ্তি ছড়াও সেই তুমি
তোমার জন্মে ধন্য আমরা ধন্য এই মাতৃভ‚মি।

✅ কবিতার নামঃ শোকের দিনে
লেখকঃ সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

শ্যামলের দেশে গায় পাখি
শোকে গায় গান,
ঘরে ঘরে বয় শোক বান
হাসি খুশি ম্লান।
ভাসে প্রিয় ছবি শোক দিনে
মনে পড়ে কী যে,
বঙ্গবন্ধু নেই শোকে দেশ
চোখ জলে ভিজে।জালিমেরা কাড়ে সুখ সব
দুখে নামে কান্না,
ভালোবাসা নেয় কেড়ে আহা
কাড়ে মুক্তো পান্না।কোটি কোটি প্রাণে গাঁথা আছে
ফুলে ফুলে বুঝি,
আগস্টের এই দিনে সবখানে
ভালোবাসা খুঁজি।বঙ্গবন্ধু অন্তরতে
ঠাঁই চিরদিন খাঁটি,
ভেজা রক্তে তাঁর দেশ
বাঙালির ঘাঁটি।

✅ কবিতার নামঃ পনেরো আগস্ট
লেখকঃ সৈয়দ শামসুল হক

এখনও রক্তের রঙ ভোরের আকাশে।

পৃথিবীও বিশাল পাখায় গাঢ় রক্ত মেখে

কবে থেকে ভাসছে বাতাসে।

অপেক্ষায়- শব্দের- শব্দেই হবে সে মুখর- আরো একবার

জয় বাংলা ধ্বনি লয়ে যখন সূর্যের আলো তার

পাখায় পড়বে এসে

ইতিহাস থেকে আরো কিছুক্ষণ পরে।

মানুষ তো ভয় পায় বাক্হীন মৃত্যুকেই,

তাই ওঠে নড়ে

থেকে থেকে গাছের সবুজ ডাল পাতার ভেতরে।

পাতাগুলো হাওয়া পায়,

শব্দ করে ওঠে আর খাতার পাতাও

ধরে ওঠে অস্থিরতা- কখন সে পাবে স্বর-

জয় বাংলা ঝড়- তাকে দাও

জন্মনাভি! বোঁটা থেকে দ্যাখো আজও

অভিভূত রক্ত যায় ঝরে

বাঙালির কলমের নিবের ভেতরে।

স্তব্ধ নয় ইতিহাস! বাংলাও সুদূরগামী

তেরোশত নদীর ওপরে ওই আজও তো নৌকোয়

রক্তমাখা জনকের উত্থান বিস্ময়!

✅ কবিতার নামঃ মুজিব নামে
লেখকঃ কবির কাঞ্চন

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

মুজিব নামেই হৃদয় মাঝে ভেসে আসে সুর
সকল দেশের সেরা বলে লাগে সুমধুর।
অত্যাচারী হানাদারের করতে পরাজয়
মুজিব নামেই বুকের ভেতর রক্তধারা বয়।
মুজিব নামেই বিশ্ব মাঝে বীরের পরিচয়
রক্ত দিয়ে আদায় করে বাংলাদেশের জয়।
শোধ হবে না কোনোদিনও তাঁর ত্যাগেরই দাম
মুজিব নামেই মিশে আছে বাংলাদেশের নাম।মুজিব নামেই দেশের মানুষ যোদ্ধা হয়ে যায়
স্বাধীন দেশে ঘুরেফিরে স্বস্তি ফিরে পায়।
সোনার বাংলা গড়তে হলে করতে হবে কাজ
মুজিব নামেই জাগতে হবে ভেঙে সকল লাজ।

✅ কবিতার নামঃ পড়ো সে ভাষণ
লেখকঃ নান্টু বড়ুয়া

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

জাতিকে জাগাতে যদি
প্রাণ কাঁদে কারো,
এমন মহান নেতাকে কেউ
এনে দিতে পারো?
যদি পারো তবে এমন
কবিতাটি লেখো,
মানুষের দুখে কাঁদে প্রাণ
ভাষণ পড়ে দেখো।সে ভাষণ আর পায়ের চিহ্ন
দুলুক হৃদয় বাগে,
শত্রুর পাখায় যেন এবার
তুষের আগুন লাগে।সে আগুনের শিখা হাতে
আজকে তোমায় পূঁজি,
পিতা হারার অভাব যে আজ
প্রতিক্ষণে বুঝি।

✅ কবিতার নামঃ এই সিঁড়ি
লেখকঃ রফিক আজাদ

এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,

সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে –

বত্রিশ নম্বর থেকে

সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে

অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
.

মাঠময় শস্য তিনি ভালোবাসতেন,

আয়ত দু’চোখ ছিল পাখির পিয়াসী,

পাখি তাঁর খুব প্রিয় ছিল –

গাছ-গাছালির দিকে প্রিয় তামাকের গন্ধ ভুলে

চোখ তুলে একটুখানি তাকিয়ে নিতেন,

পাখিদের শব্দে তাঁর, খুব ভোরে, ঘুম ভেঙে যেত।

স্বপ্ন তাঁর বুক ভরে ছিল,

পিতার হৃদয় ছিল, স্নেহের-আর্দ্র চোখ –

এ দেশের যা-কিছু তা হোক না নগণ্য, ক্ষুদ্র

তাঁর চোখে মূল্যবান ছিল –

নিজের জীবনই শুধু তাঁর কাছে খুব তুচ্ছ ছিল;

স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে পড়ে আছে

বিশাল শরীর …
.

তাঁর রক্তে এই মাটি উর্বর হয়েছে

সবচেয়ে রূপবান দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ

তাঁর ছায়া দীর্ঘ হতে হতে

মানচিত্র ঢেকে দ্যায় সস্নেহে আদরে

তাঁর রক্তে প্রিয় মাটি উর্বর হয়েছে –

তাঁর রক্তে সবকিছু সবুজ হয়েছে।
.

এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,

সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে –

স্বপ্নের স্বদেশ ব্যেপে

সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে

অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
পূর্বপশ্চিম- এনই

✅ কবিতার নামঃ তোমার জন্য পেয়েছি স্বাধীনতা
লেখকঃ নাহিদ হোসাইন

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
রেসকোর্স ময়দানের সেই বজ্রধ্বনি
লাল–সবুজের কোটি বাঙালি
চিরদিনই তোমার নিকট ঋণী।
বঙ্গবন্ধু তুমি জন্মেছিলে বলে
স্বাধীনতা তাই এসেছে চলে।
তোমার কারণে পেয়েছি এই স্বাধীনতা
মানব না তাই কারও পরাধীনতা।
স্বাধীনকামী বাঙালি তোমায় করেছিল বিশ্বাস
পরাধীনতার শিকল ভেঙে লিখেছ নতুন ইতিহাস।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি অবিসংবাদিত নেতা,
তুমি জন্মেছিলে বলেই পেয়েছি আজ এই স্বাধীনতা।

✅ কবিতার নামঃ রাজনীতির কবি
লেখকঃ রশীদ এনাম

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

টুঙ্গিপাড়ায় জন্মেছিল রাজনীতির এক কবি
মনের তুলিতে স্বপ্ন এঁকেছিল স্বাধীন বাংলার ছবি।
তাঁর ভাষণে জাদু আছে, আছে স্বদেশপ্রীতি
স্বাধীন বাংলায় আজও রচিত হয় তাঁর নামেতে গীতি।
দামাল ছেলেটির কণ্ঠ শুনলে আজও হৃদয় কাঁদে
আগস্ট এলে কবিরা সবাই শোকগাথা গান বাঁধে।
এই কবিরই আত্মত্যাগে দেশের মানুষ ঋণী
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু নামে তাঁকে সবাই চিনি।
তাঁর নামে কর্ণফুলীতে ভাসাই ভালোবাসার সাম্পান
এই বাংলার অপর নাম কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

✅ কবিতার নামঃ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিতে
লেখকঃ শঙ্খ ঘোষ

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

সবচেয়ে বড়ো সাহসের নাম স্বপ্নদেখার সাহস।
কম্বুকন্ঠে সেই সাহসের ডাক দিয়েছিলে তুমি
শুভ এক ফাল্গুনে
মহাস্বপ্নের দিকে।
দশমাস পরে-কী আশ্বর্য়-আমার জন্মভুমি
নব রূপ ধরে জন্ম নিয়েছে – অযুত মৃত্যু পাশে।শতবর্ষের উৎসবে আজ জেগে থাক তারও নাম –
জন্মমৃত্যু একাসনে বসে দিক তাঁকে সম্মান।

✅ কবিতার নামঃ মুজিব
লেখকঃ মজনু মিয়া

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

তুমি ছিলে তুমি রবে
শেখ মুজিবুর রহমান,
তোমার কৃতি তোমার স্মৃতি
চিরদিনি বহমান।আগস্ট এলে শোকের দু’চোখ
ব্যথার জলে যায় ভরে,
তোমার গড়া বাংলাদেশে
শোক পতাকায় জল ধরে।অমর অবিস্মরণীয়
জাতীয় নেতা তুমি,
বিশ্ব মাঝে উজ্জ্বল তুমি
উজ্জ্বল এই জন্মভূমি।

✅ কবিতার নামঃ মুজিব মানে বাংলাদেশ
লেখকঃ রশীদ এনাম

টুঙ্গিপাড়ার দস্যি ছেলে নামটি তাঁর মুজিবুর রহমান
মধুমতী নদী কালের সাক্ষী আজও আছে বহমান।
কে বা জানত, দুরন্ত খোকা হৃদয়পটে আঁকবে সোনার দেশ,
৭ মার্চে তাঁর ডাকেতে গর্জে উঠল স্বদেশ।
বঙ্গোপসাগরের জলরাশির চাদরে বোনা পদ্মা–মেঘনা–যমুনা
টুঙ্গিপাড়ায় হলো তাঁর শেষের ঠিকানা।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজও কানে বাজে সেই বিশ্ববিখ্যাত ভাষণ
নিজভূমেতে বিজয় নিশান ওড়ানোই ছিল তাঁর মিশন।
মুজিব মানে স্বাধীন বাংলায় পতাকার পতপত শব্দ
বঙ্গবন্ধুর হাতে হয়েছিল পাকবাহিনী জব্দ।
মুজিব মানে গরিব কৃষকের মুখে এক চিলতে হাসি
মুজিব মানে শস্যখেতে রাখাল বাজায় বাঁশি।
মুজিব মানে এক দুরন্ত কিশোর, আজও যেন গর্জে ওঠে বেশ।
মুজিব মানে মা, মাটি ও মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

✅ কবিতার নামঃ মুজিব মানে
লেখকঃ এম এ রহমান

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

মুজিব মানে বজ্রকণ্ঠ
শত্রুর কাঁপা বুক
মুজিব মানে প্রলয়শিখা
শত্রুর পোড়া মুখ।
মুজিব মানে স্বাধীনতা
আঁধার তাড়া সূর্য
মুজিব মানে অসীম সাহস
রণাঙ্গনের তূর্য।
মুজিব মানে দেশের ছবি
বুকের মধ্যে ধারন
মুজিব মানে শত্রুচোখে
দেশকে দেখা বারন।
মুজিব মানে চিরসবুজ
বাংলাদেশের হাসি
মুজিব মানে সোনার বাংলা
তোমায় ভালোবাসি।

১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে কবিতা

উপরে আপনার এতক্ষণ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা দেখে আসলেন এই পর্যায়ে এখন আমরা আপনাদের সাথে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে কবিতা গুলো শেয়ার করব। নিচে কবিতাগুলো উল্লেখ করা হলো:

কবিতাঃ যেদিন আমি প্রথম গিয়েছিলাম; কলেজ জীবনে

আরো তিন বন্ধুর সাথে ঢাকাস্থ বনানী গোরস্থানে,
তোমার পরিবারের সদস্যদের কবরের সারি দেখে
হতবাক হয়েছিলাম বলে মনটা হয়েছিল সেদিন মলিন।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

কবিতাঃ তোমার কবিতায় মুগ্ধ হয়েছিলাম; বাংলার স্বাধীনকামী জনতা
ঝাপিয়ে পড়েছিলাম; স্বাধীনতার জন্যে গড়েছিলাম- একতা,
যার কাছে যা ছিলো; তাই নিয়ে এগিয়েছিলাম- রণাঙ্গনে,
যুদ্ধের ন’মাস তোমার রূপরেখায় চলেছিলাম নিত্যদিন।
কবিতাঃ হে বঙ্গবন্ধু! শুভ হোক, আজ তোমার শুভ জন্মদিন,
তোমার চেতনায় গর্জে উঠুক দেশ ও জাতি এই দিন,
তোমাকে জানাই; অন্তস্থল থেকে ভালোবাসার সালাম,
তোমার কাছে হয়ে আছি; জানা-অজানা কত শত ঋণ।
কবিতাঃ এ কেমন করে সম্ভব হল? এ কেমন অকৃতজ্ঞতা ?
সইতে পারি না ভাবলে-সিরাজুদ্দৌলার মত ভাগ্য কথা,
যাঁর ঐতিহাসিক বাগ্মিতায় কবিতার মত ফুঁটে উঠে ছিল
আমাদের প্রাণের দাবি; রেসকোর্স ময়দানে- একদিন।
কবিতাঃ জানিনা! কি হতভাগা আমরা? কি হতভাগা দেশ ও জাতি?
বড় আফসোস হয়; দেশের জনকের সাথে করেছে- মীর জাফরী!
পলাশীতে হারিয়েছিলাম একদিন; সমূলে আমাদের স্বাধীনতা
তোমার যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া হতাম বিলীন- দেশ হত না স্বাধীন।।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা

কবিতাঃ হে বঙ্গবন্ধু! শুভ হোক, আজ তোমার শুভ জন্মদিন,
তোমার চেতনায় গর্জে উঠুক দেশ ও জাতি এই দিন,
তোমাকে জানাই; অন্তস্থল থেকে ভালোবাসার সালাম,
তোমার কাছে হয়ে আছি; জানা-অজানা কত শত ঋণ।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

কবিতাঃ আমাদের জন্যে তুমি; শত্রুদের কারাকে করেছ বরণ
আমাদের জন্যে তুমি শেষাবধি দিয়েছ সপরিবারে জীবন,
প্রমান করেছো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি তুমি-
শহীদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সত্যিই তুলনাহীন।
কবিতাঃ জাতির পিতা অবিসংবাদিত নেতার শুভ জন্মদিন,
বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে মুছবেনা কোনদিন।
জাতী আজ স্মরণ করিছে তোমায় বিনম্র শ্রদ্ধায়,
তুমি থাকবে চিরঅমর হয়ে অনিঃশেষ ভালবাসায়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুভ জন্মদিন,
শিমুল পলাশ হাজারো ফুলে বসন্ত এত রঙিন।
পত্র-পল্লব পুষ্প বৃক্ষরাজি শুভক্ষণের তীব্র প্রতিক্ষায়,
ফুলের গন্ধে সুরের ছন্দে রঙে বর্ণে প্রকৃতি সাজায়।হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি হে ক্ষণজন্মা নেতা,
তোমার জন্যই পেয়েছি মোরা প্রাণের স্বাধীনতা।
তুমি না হলে বাংলাদেশ হতোনা হে চিরঞ্জীব নেতা,
তাই বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ একই সুতোই গাঁথা।পাকিস্থানের শাষক গোষ্টির ২৪বছরের দুঃশাসন,
দিয়েছিলে অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ভাষন।
পরাধীনতার শিকল ভেঙে লিখে গেছো ইতিহাস,
আর যেন তাকে বিকৃত করার পায়না দুঃসাহস।
সাহসে, স্নেহে, ভালোবাসায়, মমতায়, দুর্বলতায়,
আপামোর বাঙালির স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিবাদী সত্ত্বায়।
তুমি থাকবে বাঙালির হৃদয়ে, অস্তিত্বে বহমান,
শ্রদ্ধাভরে স্মরিব তোমায় শেখ মুজিবুর রহমান।।

পরিশেষেঃ আজকের পোস্টে আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা এছাড়াও ১৭ মাস বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে কবিতা গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি । এই কবিতা গুলো আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

আর হ্যা আপনি চাইলে আপনার পরিচিত বন্ধু বান্ধবের সাথেও আমাদের আজকের এই কবিতা গুলো শেয়ার করতে পারেন।

ভালো লাগতে পারে

Back to top button