কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে – শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ

আসসালামু আলাইকুম, একজন মানুষের সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীর কে ঠিক রাখা টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।  আর এই শরীরকে সুস্থ এবং সবল রাখতে রক্ত কত বড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেটা আর বলা লাগবেনা । যদি আমাদের শরীরের মধ্যে রক্তের সমস্যা থাকে তাহলে কখনোই আমরা সঠিকভাবে বাঁচতে পারব না । তো যদি আপনার শরীরের রক্তের ঘাটতি থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ এবং কি খেলে রক্ত বাড়ে বা কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।

কি খেলে রক্ত বাড়ে – শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ – কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে

রক্ত এমন একটি উপাদান যেটা না থাকলে মানুষ এক সেকেন্ড ও বেঁচে থাকতে পারবে না । এছাড়া যদি কারো রক্তের মধ্যে সামান্য পরিমাণ ও ত্রুটি থাকে তাহলে তার শরীরে সব সময় অসুখ লেগে থাকবে । এগুলো ছাড়াও রক্তের মধ্যে সমস্যা হবে আর শত শত ধরনের সমস্যা আপনার শরীরে দেখা যাবে ।রক্তের সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে শরীরের রক্ত কম হওয়া বা রক্তস্বল্পতা থাকা । তাই আজকের পোস্টে আমরা এই শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ এবং কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে? এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন তাহলে কথা না বলে শুরু করা যাক ।

কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে - শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ

শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ

বন্ধুরা অনেকের শরীরে রক্ত কম হয়ে যায় কিন্তু তারা ঠিকভাবে বুঝতেই পারে না যে তাদের শরীরের রক্ত কম হয়ে গেছে । এবং তাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় যেটা তারা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় না এ কারণে আপনাকে আগে অবশ্যই এই শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে । তাই কি খেলে রক্ত বাড়ে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা আপনাদেরকে এই শরীর রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ সম্পর্কে জানাতে চাই ।

রক্তের মধ্যে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে যার নাম হচ্ছে হিমোগ্লোবিন । আর এই হিমোগ্লোবিন পুরুষদের শরীরে প্রতি এক লিটার রক্তে ১৩৫ গ্রাম থাকে আর নারীদের শরীরে প্রতি লিটার রক্তে ১২৫ গ্রাম পরিমাণে থাকে । যখন প্রতি লিটার রক্তের মধ্যে এই হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় তখন সেটাকে রক্তস্বল্পতা ধরা হয় । কিন্তু সব সময় রক্ত পরীক্ষা করে রক্তস্বল্পতার দেখার মতো সুযোগ সবার হয় না এ কারণে দীর্ঘদিন রক্তস্বল্পতা শরীরের মধ্যে থেকে গেলেও আমার সঠিকভাবে বুঝতে পারি না।  যার কারণে নিচে আমি কয়েকটি শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ আপনাদেরকে বলে দিলাম যেগুলো আপনার সাথে মিলে গেলে বুঝবেন আপনার শরীরে রক্তস্বল্পতা রয়েছে ।

সবসময় ক্লান্ত অনুভব করা: শরীরকে সুস্থ ভাবে চলাফেরা করতে হলে তার অনেক শক্তি প্রয়োজন হয় আর এই শক্তিগুলো আসে আমাদের শরীরের রক্ত থেকে । আর রক্তের মধ্যে যখন অক্সিজেন এর মাত্রা ঠিক থাকে তখন আমরা আমাদের শরীরকে ঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারি  । এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে এই অক্সিজেন কে হিমোগ্লোবিন নামক রক্তের উপাদান পরিবহন করে থাকে । অর্থাৎ হিমোগ্লোবিন নামক রক্ত এর উপাদান গুলো এই অক্সিজেন কে পরিবহনের কাজ করে থাকে । কিন্তু যখন আপনার শরীরে এই হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাবে তখন রক্তের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণের অক্সিজেন উপস্থিত থাকবে না এবং আপনি আপনার শরীরকে ঠিকমতো চালনা করতে পারবেন না সব সময় হাঁপিয়ে যাবেন বা ক্লান্ত করবেন। কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে

আরোও পড়ুনঃ   কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা কি? বিস্তারিত জানুন

ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া: আমাদের ত্বকের নিচেই থাকে এই রক্ত আর এই রক্ত থাকার কারণে আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা ঠিক থাকে এবং বাইরে থেকে কিছুটা লাল দেখা যায় । কিন্তু যখন আপনার শরীরের মধ্যে থেকে রক্ত কমে যাবে অর্থাৎ রক্তস্বল্পতা দেখা যাবে । তখন আপনার চামড়া ফ্যাকাসে হওয়া শুরু করবে অর্থাৎ ভিতরের মাংসগুলোর লাল রং হারিয়ে ফেলার কারণে এই ফ্যাকাসে ভাবটা দেখা দিবে । তাই যদি আপনি দেখেন যে দিন দিন আপনার শরীরের রং ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে তাহলে বুঝবেন আপনার শরীর রক্তস্বল্পতা আছে ।

পড়ুনঃ সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় | মোটা হওয়ার ঔষধের নাম জানতে চান?

অতিরিক্ত চুল পড়া: চুল আমাদের সৌন্দর্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।  কিন্তু আমাদের চুল তখনই পড়া শুরু করে যখন আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়ে যায় । আর এই আয়রন আসে রক্তের মধ্যে থাকা উপাদানের কারণে।  যখন আপনার শরীর ঠিকমতো রক্ত যোগান দিতে পারবে না তখন এই আয়রনের পরিমাণ কমে যাবে এবং আপনার চুল পড়া সহ আর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু হবে।

মানসিক সমস্যা হওয়া: সবার ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যা হবে এমনটা নয় তবে বেশি রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে অনেকের ক্ষেত্রে এই মানসিক সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক । কারণ যদি আমাদের শরীরে রক্তের পরিমাণ কম থাকে তখন শরীর ঠিকমতো শক্তি যোগান দিতে পারবে না এবং শরীর দুর্বলতা অনুভব হবে। আর এই দুর্বলতার কারণে আমাদের মাথাব্যথা সৃষ্ট হবে আর এই মাথাব্যথার কারণে এই মানসিক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় ।

শরীর ঠান্ডা হয়ে থাকা: প্রত্যেকটা মানুষের শরীরের একটা স্বাভাবিক তাপমাত্রা আছে ।আর এই তাপমাত্রার বজায় থাকার প্রধান কারণ হচ্ছে রক্ত। যদি রক্ত ঠিকমতো কাজ না করতে পারে বা রক্তস্বল্পতা থেকে যায় তাহলে আমাদের শরীর তার গর তাপমাত্রা হারিয়ে ফেলবে। আর এখানে যদি শরীর তার তাপমাত্রা হারিয়ে ফেলে তখন শরীর সবসময় ঠান্ডা থাকবে । বিশেষ করে হাত-পা বেশি বেশি করে ঠান্ডা হয়ে যাবে যেটা রক্তস্বল্পতার অন্যতম একটি লক্ষণ ।

খুব বেশি জ্বর হওয়া: দুনিয়ায় এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যার জীবনে একবারও জ্বর হয়নি । জ্বর এমন একটি অসুখ যেটা প্রত্যেক মানুষেরই কোন না কোন একবার হয়েছিল। কিন্তু বন্ধুরা এই জ্বর তখনই হয় যখন আমাদের শরীরে রক্তের মধ্যে কোন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে । তখন আমাদের শরীর সেটাকে প্রতিরোধ করার জন্য শরীরের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম শুরু করে দেয় যার ফলে আমাদের শরীরের জ্বর এসে যায় । কিন্তু যখন দেখবেন আপনার প্রতিনিয়ত নিয়মিত জর আসতেছে তখন বুঝবেন আপনার রক্তের মধ্যে মারাত্মক সমস্যা হয়েছে এবং দ্রুত আপনাকে ডাক্তারের কাছে গিয়ে আপনার শরীরের পরীক্ষা করতে হবে ।

উপরের এগুলো ছিল প্রধান কিছু শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ । কিন্তু এগুলো ছাড়াও আমাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা হলে আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে । সেজন্য আমাদেরকে অবশ্যই মাঝেমধ্যে ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্তস্বল্পতা আছে কিনা সেটা চেক করে নিতে হবে ।

কি খেলে রক্ত বাড়ে – কোন খাবার খেলে রক্ত বাড়ে

উপরে আমরা শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ সম্পর্কে বেশ কয়েকটা লক্ষণ আপনাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি । তো এখন কথা হচ্ছে এই লক্ষণগুলো যদি আপনার সাথে মিলে যায় এবং সত্যি আপনার শরীরের রক্তস্বল্পতা থেকে থাকে তাহলে আপনি এটাকে কিভাবে সমাধান করবে বা কি খেলে রক্ত বাড়ে এই বিষয়ে জানতে হবে । যার কারণে এখন এই পয়েন্টটা আপনাকে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পরতে হবে।  কারণ এখানে আমরা কোন খাবার খেলে রক্ত বাড়ে এছাড়া কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে এই বিষয় সম্পর্কে আপনাদেরকে ধারণা দেবো ।

আরোও পড়ুনঃ   হরিতকির উপকারিতা গুলো বিস্তারিত জেনে নিন

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখা ভালো, যদি আপনার শরীরে রক্তের মধ্যে অনেক বেশি পরিমাণে রক্তস্বল্পতা দেখা যায় বা রক্তের মধ্যে অন্য কোন সমস্যা থেকে যায় । তাহলে আপনাকে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঠিকমতো মেডিসিন সেবন করতে হবে শুধুমাত্র ফল খেলে শরীরে অনেক বেশি রক্তের ঘাটতি পূরণ হবে না । তবুও ফল খেলে যেহেতু শরীরের রক্তস্বল্পতা সহ আরো বেশ কিছু উপকার হবে তাই আমি আপনাকে কিছু খাবারের নাম সাজেস্ট করব এবং এগুলো খাওয়ার নিয়ম বলে দেব ।কি ফল খেলে রক্ত বাড়ে

১. সবুজ শাক সবজিঃ সবুজ শাকসবজিকে শরীর সুস্থ রাখার মাস্টার বলা হয়। কারণ কেবল এই সবুজ শাকসবজিই পারে আমাদের শরীরকে একদম স্বাভাবিক রাখতে । আর এই সবুজ শাকসবজির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন বি ভিটামিন সি এছাড়াও প্রোটিন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো যেগুলো আমাদের রক্তের জন্য খুবই ভালো ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পরে। তাই আপনার উচিত প্রত্যেক দিন আপনার খাদ্য তালিকায় এই সবুজ শাকসবজিকে রাখা । আর যদি আপনার শরীরের মধ্যে রক্ত এর ঘাটতি থেকে যায় তাহলে অবশ্যই আপনাকে এই সবুজ শাক সবজি গ্রহণ করতেই হবে ।

২. আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য বেশি বেশি খাওয়া: উপরে আমি বলেছিলাম আমাদের শরীরের রক্তের মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি কণিকা থাকে যেটা তৈরি হয় এই আয়রনের মাধ্যমে । আর এই হিমোগ্লোবিনই আমাদের শরীরের রক্তের পরিমাণ ঠিক রাখে। যার কারণে শরীরের রক্তের পরিমাণ ঠিক রাখতে হলে এই হিমোগ্লোবিন কে অবশ্যই ঠিক রাখতে হবে । হিমোগ্লোবিন কে পরিমাণমতো রাখতে হলে আমাদেরকে পুলিশের আয়রন যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে ।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গুলো যেমন: আলু সিদ্ধ , কচু, কলিজা, ডিম ও মাংস ইত্যাদি ।এগুলো প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

৩. পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করা: ভিটামিন সি এমন একটি ভিটামিন যা আমাদের শরীরে না থাকলে আমরা সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করতে পারবো না । বিভিন্ন টক জাতীয় ফল যেমন লেবু , স্ট্রবেরি এগুলোতে ভিটামিন সি থাকে । এটা ছাড়াও শীতের সবজি টমেটোতে অনেক বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি উপস্থিত থাকে। তাই ভিটামিন সি এবং রক্তের ঘাটতি পূরণ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই নিয়মিত টমেটো খেতে হবে তাহলে রক্তের স্বল্পতা পূরণ হয়ে যাবে ।

৪. ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াঃ রক্তের মধ্যে ৩ টি কণিকা থাকে তার মধ্যে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কণিকা হচ্ছে লোহিত রক্ত কণিকা। এই লোহিত রক্ত কণিকার প্রধান কাজ হচ্ছে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় আমাদের শরীর থেকে রোগ জীবাণু ধ্বংস করা । যেহেতু রক্ত কমে গেলে শরীর থেকে লোহিত রক্তকণিকা ও কমে যাবে। তাই আমাদেরকে অবশ্যই এই কনিকাকে ঠিক রাখতে হবে আর এই লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ ঠিক রাখতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই ভিটামিন b12 সমৃদ্ধ খাবার পরিমাণ মত খেতে হবে  । ভিটামিন বি১২ যুক্ত খাবার যেমন: গরুর মাংসের লিভার , ডিম , মাছ এছাড়াও দুগ্ধ জাতীয় খাবার গুলো ।

৫. ভিটামিন বি৯ বা ফলিক এসিড গ্রহণ করা: এই ভিটামিন ও আমাদের রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । আর এই ফলিক এসিড যুক্ত খাবার যেমন: তিলের বীজ, বাদাম ,শাকসবজি এবং ডাল ইত্যাদি। এগুলো খেলে আমাদের শরীরের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ হবে এবং লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ ও বৃদ্ধি পাবে ।

কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে

উপরে আমরা এতক্ষণ বেশ কিছু খাদ্যের কথা উল্লেখ করেছি যেগুলো খেলে আপনাদের শরীরের রক্ত বৃদ্ধি পাবে এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ হবে । কিন্তু ফল এমন একটি উপাদান যেটা খেলে খুব দ্রুত আমাদের শরীরে রক্তের ঘাটতি পূরণ হবে যেটা এখন আমরা আপনাদেরকে বলবো।  নিচে বেশ কিছু ফলের কথা উল্লেখ করা হলো এগুলো অবশ্যই আপনারা নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করবেন ।

আরোও পড়ুনঃ   আসল সাবুদানা চেনার উপায় - সাবুদানার উপকারিতা ও অপকারিতা

১. পিচ ফল খাওয়া

এই পিচ ফল এমন একটি উপাদান যেটার মধ্যে ভিটামিন সি এবং আয়ন রয়েছে প্রচুর। আর আমাদের রক্ত বৃদ্ধি করতে , ভিটামিন সি এবং আয়নের গুরুত্ব কত বেশি সেটা উপরেই আপনাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। তো যদি আপনার শরীরের রক্তস্বল্পতা হয় , তাহলে অবশ্যই এই পিচ ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন ।

২. ডালিম খাওয়া

ডালিমকে জান্নাতি ফল বলা হয়। এই ডালিম রক্ত বৃদ্ধি করতে অনেক অনেক বেশি উপকার করে থাকে। রক্ত বৃদ্ধি করার জন্য অন্যতম ফল এ ডালিমকে ধরা হয় । কারণ ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং আয়রন সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ । তো আপনারা এই ডালিমকে অবশ্যই জুস বানিয়ে খাবেন তাহলে যে কোন জুসের থেকে অনেক বেশি কাজ হবে। আপনারা চাইলে প্রতিদিন একগ্লাস করে ডালিমের জুস গ্রহণ করতে পারেন ।

৩. নিয়মিত আপেল খাওয়া

কথায় আছে আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়। কারণ আপেলকে ঔষধি ফল ও বলা হয় ।এই আপেল খেলে আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হওয়াসহ রক্তস্বল্পতাও খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যায় । যদি আপনি নিয়মিত আপেল খেতে পারেন তাহলে আপনার শরীরে হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণও বেড়ে যাবে । এছাড়া আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন । তো যদি আপনি আপিল থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণে পুষ্টিগুণ উপভোগ করতে চান তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন খোসা না ছাড়িয়ে একটি করে আপেল খান ।

৪. নিয়মিত কলা খাওয়া:

কলা যে কতটা উপকারী একটি উপাদান সেটা আমরা একটি পোস্টে আপনাদেরকে খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছি । এছাড়াও আগের টপিকে আমি আপনাদেরকে ফলিক এসিডের কথা বলেছিলাম আর এই কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড। কলাতে এত পরিমাণ ভিটামিন আছে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে যেমন কাজ করে তেমনি শরীরের রক্তকে সুস্থ রাখতেও অনেকটা পরিশ্রম করে থাকে । সব থেকে ভালো ব্যাপার হচ্ছে কলা এমন একটি ফল যেটা প্রত্যেক গ্রামগঞ্জে শহরে সব জায়গায় পাওয়া যায় এবং খুব স্বল্পমূল্যে এটি পাওয়া যায় । তাই আপনারা চেষ্টা করবেন অবশ্যই প্রতিদিন দুই-তিনটি করে কলা খাওয়ার তাহলে এখান থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুবিধা পাবেন এবং তাড়াতাড়ি রক্তস্বল্পতা দূর হতে সাহায্য করবে ।

৫. কমলালেবু খাওয়া

জানলে অবাক হবেন কমলালেবু খেলেও আমাদের শরীরে রক্ত বাড়ে কারণে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যেটা আমাদের শরীরের জন্য যেমন উপকারী তেমনি আমাদের শরীরের ভিতরে থাকা রক্তের জন্য বেশ উপকারী একটি উপাদান । তাই আপনার চেষ্টা করবেন অবশ্যই এই কমলালেবু খাওয়ার ।

শুধু যে উপরের এই ফলগুলো খেলে আমাদের শরীরের রক্তের পরিমাণ বাড়বে এমনটা নয়। এগুলো ছাড়াও আরো অনেক ফল রয়েছে যেগুলো খেলে আমাদের শরীরের রক্তের পরিমাণ বেড়ে যাবে । এর মধ্যে যেমন শুকনো ডুমুর ,শুকনো কিসমিস , আঙ্গুর, তরমুজ এছাড়াও এই জাতীয় যে ফলগুলো আছে সেগুলো খাবেন ।

পরিশেষে

আজকের পোস্টে আমরা শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ বিস্তারিত বোঝানোর পাশাপাশি কি খেলে রক্ত বারে বা কোন ফল খেলে রক্ত বাড়ে এই সকল বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত জানানোর যাওয়ার চেষ্টা করেছে । যদি এগুলো থেকে কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে প্রশ্ন করে সেটা বুঝে নিবেন ।

তবে হ্যাঁ সর্বশেষে আমি আপনাদেরকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলব সেটা হচ্ছে, যদি আপনার শরীরে রক্তের স্বল্পতা অনেক বেশি পরিমাণে বেড়ে যায় বা রক্তের মধ্যে অন্য কোন ধরনের বাড়তি সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং নিয়মিত মেডিসিন সেবন করতে হবে । কারণ রক্তের সমস্যা মানে মারাত্মক সমস্যা এটা কোনভাবে অবহেলা করে নয় ।  তবে যদি রক্তস্বল্পতা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে উপরে বলা এই ফল এবং খাবার গুলো খেলে আশা করি সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে । এখানে যে খাবার গুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো একদিন খেলে হবে না। অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত রুটিন মেনে এগুলো গ্রহণ করতে হবে তাহলেই কেবল ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব ।

ভালো লাগতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button